তেলেসিক

এক-যে ছিল বুড়ো আর বুড়ি। বুড়ো হল কিন্তু ছেলেপুলে নেই ৷ কষ্ট হয়, দুঃখ, করে, ‘বুড়ো বয়সে কে আমাদের দেখবে? মরণকালে কে আমাদের পাশে থাকবে?” বুড়োকে বুড়ি বলে: ‘বনে যাও গো, আমার জন্যে একটা কাঠের পায়া আর একটা দোলনা বানিয়ে দাও; পায়াটাকে দোলনায় রেখে দোলাব। অন্তত খানিক মন-ভুলানি তো হবে।’

বুড়ো প্রথমটা গা করে নি, বুড়ি কিন্তু কেবলি মিনতি করে; শেষ পর্যন্ত বুড়ো শুনল তার কথা, বনে গেল। কাঠের একটা পায়া চেঁছে তুলল, দোলনা বানাল। বুড়ি পায়াটাকে দোলনায় রেখে দোলায় আর গুনগুন করে:

তেলেসিক, যাদু আমার,

রেঁধেছি তোর জইয়ের মাড়,

রেঁধেছি তুলতুলে খাবার,

তেলেসিক, যাদু আমার!

দোলাতে, দোলাতে, শেষে ঘুমিয়ে পড়ল। পরের দিন সকালে উঠে দেখে, পায়াটা হয়ে গেছে ছোট্ট একটি ছেলে! ভারি আনন্দ হল তাদের, ছেলের নাম রাখল তেলেসিক।

দিনে দিনে বাড়ে ছেলেটি, ভারি শান্তশিষ্ট—বুড়োবুড়ির আনন্দ আর ধরে না।

যখন হল নওল কিশোর, ছেলে বললে: ‘বাবা আমায় সোনার নাও, রূপোর বৈঠা বানিয়ে দাও-না: নদীতে মাছ ধরব, তোমাদের খাওয়াব।’

বুড়ো বানাল সোনার নাও, রূপোর বৈঠা। নৌকো ভাসল নদীতে। তেলেসিক চলে গেল। নদীতে নাও ছাড়ে, মাছ ধরে, বুড়োবুড়িদের খাওয়ায়। মাছ ধরা হলে তা দিয়ে যায়, ফের নাও ভাসায়। বুড়ি তার জন্যে খাবার নিয়ে আসে, প্রতিবার বোঝায়: ‘দেখিস বাছা, যখন আমি ডাক দেব, নাও ভেড়াবি, অন্য কেউ ডাকলে নাও বেয়ে চলে যাবি।’

একদিন বুড়ি দুপরের খাবার রেঁধে তীরে এসে ডাকল:

তেলেসিক, সোনা আমার

রেধেছি তোর জইয়ের মাড়,

নৌকো ভেড়া নদীর পাড়!

তেলেসিক শুনতে পেল। ‘যা নৌকো ভেসে, তীরের দিকে, তীরের দিকে! মা আমার পরের খাবার রেঁধে এনেছে।’

ভেসে এল। নাও ভেড়াল তীরে, খেল, দেল, রূপোলি বৈঠা নেড়ে ভেসে গেল নদীতে, আরো মাছ ধরতে।

ওদিকে নাগিনীর কানে গিয়েছিল মা কেমন করে তেলেসিককে ডাকে। নদীর তীরে এসে সে হেঁড়ে গলায় গর্জে উঠল:

তেলেসিক, সোনা আমার

রেধেছি তোর জইয়ের মাড়,

নৌকো ভেড়া নদীর পাড়!

ছেলে কান পেতে শোনে...‘না, এ তো আমার মায়ের গলা নয়! ভেসে যা নাও, ভেসে যা নাও দূরে! ভেসে যা নাও, ভেসে যা নাও দূরে!’

বৈঠা টানল, নৌকোও চলতে থাকল। নাগিনী দাঁড়িয়ে থেকে থেকে শেষ পর্যন্ত চলে গেল, কোনো ফল হল না।

তেলেসিকের মা এবার রাঁধল বিকেলের খাবার, তীরে এনে ডাকে:

তেলেসিক, সোনা আমার,

রেঁধেছি তোর জইয়ের মাড়,

নৌকো ভেড়া নদীর পাড়!

শুনতে পেল তেলেসিক ৷ ‘যা নৌকো ভেসে, তীরের দিকে, তীরের দিকে! মা আমার বিকেলের খাওয়া রেঁধে এনেছে।’

তীরে এল, খেল, দেল, মাকে মাছগুলো দিলে, নৌকো ভাসিয়ে ফের চলে গেল।

নাগিনী আবার এসে ফের ডাকে হেঁড়ে গলায়:

তেলেসিক, সোনা আমার,

রেঁধেছি তোর জইয়ের মাড়,

নৌকো ভেড়া নদীর পাড়!

ছেলে টের পেল এটা মায়ের গলা নয়, বৈঠা বাইতে লাগল। ‘ভেসে যা নাও, ভেসে যা নাও দূরে! ভেসে যা নাও, ভেসে যা নাও দূরে!’

নৌকোও দূরে ভেসে গেল।

নাগিনী দেখে, কোনো ফল হচ্ছে না। গেল কামারের কাছে: ‘কামার, ও কামার! আমার গলা পিটিয়ে মিহি করে দাও, তেলেসিকের মায়ের মতো।’

তাই পিটিয়ে দিলে কামার। তীরে গিয়ে নাগিনী ডাকতে লাগল:

তেলেসিক, সোনা আমার,

রেঁধেছি তোর জইয়ের মাড়,

নৌকো ভেড়া নদীর পাড়!

ছেলে ভাবল মা ডাকছে। ‘যা নৌকো ভেসে, তীরের দিকে, তীরের দিকে। মা আমার জন্যে খাবার এনেছে।’

তীরে এসে ভিড়ল। নাগিনীও অমনি তাকে নাও থেকে টেনে বার করে নিয়ে যেতে লাগল নিজের বাড়ির দিকে।

নিয়েই এল: ‘নাগ-খুকি আলেঙ্কা, দরজা খোল!’

আলেঙ্কা দরজা খুলল, নাগিনী ঢুকল

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion